ভারত সবসময় আ.লীগের চোখে বাংলাদেশকে দেখেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

0
25

ভারত সব সময় আওয়ামী লীগের চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখেছে বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, তাদের (ভারত) সঙ্গে সম্পর্কটি জনগণের সঙ্গে জনগণের হয়নি, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের হয়নি। বরং ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের হয়েছে। আমরা বলতে চাই, ভারতের জনগণের সঙ্গে আমাদের জনগণের বিমাতাসুলভ সম্পর্ক নেই। বরং ভারতের সরকার দেড়যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আওয়ামী লীগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। আমাদের অস্বস্তি সেই জায়গায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে যমুনার গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল ও মুখপাত্র আবদুল হান্নান মাসুদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পরে শুরু হয়ে এ বৈঠক শেষ হয় রাত আটটার পরে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে সব জায়গায়। ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে হামলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে বিশ্ব গণমাধ্যমে দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা অনিরাপদে রয়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি তাকে জানানোর চেষ্টা করেছি।

ভারত সরকারের সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় করা ‘অসম চুক্তি’ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ফেলানীসহ সীমান্তে যতগুলো হত্যা হয়েছে তার বিচার নিশ্চিত এবং পানির ন্যায্য হিস্যা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক যাতে ন্যায্যতার ভিত্তিতে হয় এবং তাতে মর্যাদা থাকে এমন কথা বলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মানুষ মনে করে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানা উচিত। সেই কথাটি প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।

ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কটি যেন জনগণের সঙ্গে জনগণের, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের হয়।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমানরা এক সঙ্গে লড়াই করবো। ভারত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগকে নির্ভর করে যে অন্যায্য সম্পর্ক তৈরি করেছে। আপনারা যদি মনে করেন আবারও এ ধরণের অন্যায্য সম্পর্ক তৈরি করতে পারবেন, তাহলে ভ্রান্তির মাধ্যমে আছেন। বর্তমান সরকার জনগণের রায়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এসেছে। আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে না দেখে, জনগণের দৃষ্টি দিয়ে সরকারের সঙ্গে ন্যায্যতার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। কোনও কারণে সম্পর্ক খারাপ হলে অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একহাত, একচুল পরিমাণ ছাড় দেবো না।

সাম্প্রদায়িক ট্রাম্প কার্ড বিশ্ব মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বলা হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে ইসলামী উগ্রবাদের সৃষ্টি। বিষয়টি যে এরকম না, বরং সকল শ্রেণি-পেশার, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। সংখ্যালঘু রয়েছে, যদিও শব্দটি ব্যবহার করতে সংকোচবোধ করি। বাংলাদেশের প্রত্যেকে সাম্য ও মর্যাদার মাধ্যমে জীবন ধারণ করছে। আমাদের সম্প্রীতি রয়েছে, তা কীভাবে বিশ্বের দরবারে আরও বেশি প্রচার করা যায় এবং প্রোপাগান্ডাবিরোধী সেল তৈরি করা যায় এ বিষয়ে কথা হয়েছে।

মানুষ রাস্তায় কী বলতে চাচ্ছে সেটা প্রধান উপদেষ্টা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের কাছে শুনেছেন বলে জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সংখ্যালঘুর ট্রাম্পকার্ড ব্যবহার করে একটি ন্যারেটিভ বাস্তবায়ন করেছে দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাদের মতে আওয়ামী লীগ যতদিন রয়েছে ততদিন হিন্দুধর্মের স্বার্থ রক্ষা হবে। আমরা ভারতকে বলতে চাই আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছে, নিপীড়ন করেছে, সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তার ইতিহাস দ্বিতীয়টি নেই। আপনারা যদি মনে করেন আওয়ামী লীগই সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করবে তা ভুল ধারণা। কিছু সংখ্যক সংখ্যালঘুর কেউ কেউ শারীরিকভাবে বাংলাদেশি হলেও মানসিকভাবে ভারতীয় ধ্যানধারণা পোষণ করেন। যারা এখানে বসে ষড়যন্ত্র করছেন।

দেশের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র আবদুল হান্নান মাসুদ। তিনি বলেন, দেশের মানুষ সরকারকে নিয়ে কী ভাবছে। সামনে সরকারের কি করা উচিত। প্রশাসনিক ব্যবস্থা কীভাবে চলছে। মাঠের সেই চিত্র প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেছি।

জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে মাসুদ বলেন, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা এখনও ভাঙেনি। সকল রাজনৈতিক দল দেশের স্বার্থে একমত। সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এক সঙ্গে কাজ করবে। আমরা সরকারকেও বলেছি উদ্যোগ নিতে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও উদ্যোগ নেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপহাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে মিছিল করে ভারতের মুখে চপেটাঘাত করেছে বলেও দাবি করেন আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, দেশে কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নেই, সম্প্রীতি বিরাজমান। দেশের হিন্দু, মুসলিম একসঙ্গে বাস করে। জাতীয় ঐক্যের জায়গাও আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here