রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকা এখন বিএনপির মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত। সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে নয়া পল্টনে আসতে শুরু করেছে। মঞ্চে আশ-পাশে নেতা-কর্মীর ভিড় বাড়ছে। সাদা, নীল, লাল, সবুজ ও হলুদ টুপি মাথায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী মুহুর্র মুহুর্র করতালি দিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে ‘এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনা এখনই যাবি’, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। ৯টি বড় ট্রাকের দুইপাশের ডালা খুলে একটির সঙ্গে আরেকটি একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছে মহাসমাবেশের অস্থায়ী মঞ্চ। বিছানো হয়েছে লাল কার্পেট। উত্তরমুখী এই মঞ্চে নেতাদের জন্য রয়েছে শতাধিক চেয়ার। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য রাখা হয়েছে দুইটি আলাদা চেয়ার। মঞ্চের এক পাশে রয়েছে বিশাল আকারের ডিসপ্লে বোর্ড। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বেধে দেয়া সীমানায় ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইলসহ আশপাশে টাঙানো হয়েছে দেড় শতাধিক মাইক।
গণমাধ্যম এবং সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য দুইটি বড় ট্রাক একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছে আলাদা দুইটি মঞ্চ। শুক্রবার দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহাসমাবেশের কার্যক্রম শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ‘এক দফা’ দাবিতে বিএনপিসহ সমমনা জোট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শুক্রবার যুগপতভাবে আলাদা আলাদাভাবে মহাসমাবেশ-সমাবেশ করছে। গত ১২ জুলাই শুরু হওয়া এক দফার আন্দোলনের এটি দ্বিতীয় কর্মসূচি। এর আগে তারা ১৮ ও ১৯ জুলাই সারাদেশে মহানগর ও জেলায় পদযাত্রা করেছে। মানুষের ভিড় ও চাপ বাড়তে থাকায় সকাল থেকে নয়া পল্টনের দুই পাশের সড়কই যান চালাচল পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে।
মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমরা প্রথম থেকে বলে আসছিলাম ২৮ জুলাইয়ের মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এর কোনো সীমানা নেই। এই জনস্রোতকে কোনো সীমানাই দিয়ে রোখা যাবে না। এই সকালে নয়া পল্টনে তার প্রমাণ দিয়েছে অধিকারহারা মানুষেরা।
মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, এখন যে মানুষজন দেখছেন এদের বেশিভাগই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা। নয়াপল্টনের সড়কে দাঁড়ানোর তিল পরিমান ঠাঁই নেই। ঢাকার ওয়ার্ডগুলো থেকে মানুষজন আসা শুরু করলে এই জনস্রোত মতিঝিল, শান্তিনগর, বিজয়নগর ছাড়িয়ে যাবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা থেকে আসা যুবদলের নেতা আখতারুল ইসলাম, মো. মহসীন ও সুমন বলেন, নানা ধরনের বাধা মোকাবিলা করে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়েছি। আমরা অবিলম্বে এই আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ চাই।
গত ১২ জুলাই বিএনপিসহ সমমনা জোটগুলো যুগপতভাভে এক দফার ঘোষণা দেয়। এই একদফার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান। এক দফা দাবিতে গত ১৮ ও ১৯ জুলাই সারাদেশে মহানগর ও জেলায় পদযাত্রার পর ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি করছে।
সমাবেশ উপলক্ষে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল ও ফকিরাপুলের মোড়ে পুলিশের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে । ফলে বিএনপি অফিস ও তার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ নেই।