আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া মোল্যা (৩৮) কে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ দিনমজুর জিয়া মোল্যা কখনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। হঠাৎই রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেফতার করায় বিস্মিত হয়েছেন গ্রামবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রতিহিংসামূলক কারণে একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করে সাজানো মামলায় জিয়াকে ফাঁসিয়েছে।
গত শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে শৈলমারী চৌরাস্তায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন তবিবুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন খাইরুল ইসলাম। বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদরাসার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের রেষারেষির জেরে প্রতিপক্ষ একটি মহল প্রশাসনকে ব্যবহার করে এই গ্রেফতার ঘটিয়েছে।
এর আগে ১৩ আগস্ট আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ জিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান করে। আদালতের ফরওয়ার্ডিং সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা থানার জিআর মামলা নং-৩–এ তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে চালান করা হয়।
জিয়ার বড় ভাই ফায়েক মোল্যা বলেন,
“তার নামে কোনো মামলা ছিল না। হঠাৎ করেই পুলিশ কোনো প্রকার ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে তুলে নেয়। আমরা এই অন্যায়ের নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে তার মুক্তি চাই।”
জিয়ার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? ঘরে চাল-ডাল নাই, রান্না করতে পারছি না। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন জিয়া মোল্যা। সেই সামাজিক অবস্থানকেই রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হয়েছে।

