নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার কাচারীকান্দি গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় আহত নুর জাহান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
রবিবার(১৫ জুন) সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে অলিউর রহমান জানারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত নুর জাহার বেগম নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার কাচারীকান্দী গ্রামের মৃত অলিউর রহমানের স্ত্রী ছিলেন।তিনি ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের জননী ছিলেন।

নিহতের ছোট ছেলে জিয়াউর রহমান জানান,চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস কামাল জুয়েল, আব্দুল করিম, কামাল মিয়া, রবি উল্লাহ, শাহ আলম ও আবুল কালামসহ ৮ থেকে ৯ জন ধারালো অস্ত্রসহ আমাদের বসত বাড়ীতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার বৃদ্ধ মা নুর জাহান বেগম বাধা দিলে তারা মাকে পিটিয়ে আহত করে এবং আমার বড় ভাই ব্যবসায়ী মুইন উদ্দিনকে খুজতে থাকে।চেয়ারম্যান ফেরদৌস কামাল আমার মাকে বলে চাঁদার ২৫ লাখ টাকা কোথায়।আমার মা তাদের হাত জোড় করে বলে আমার ছেলে তোমাদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।মুইন উদ্দিন কোথায় আছে সেটা আমি বলতে পারি না।মুইন উদ্দিনকে পেলে তাকে এবার জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।পরে আমার মাকে প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় অলিউর রহমান জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।এই ঘটনার পর সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকে।এরপর হাসপাতাল থেকে আমার মাকে ছাড়পত্র দেয়।পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আবারও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুন সকালে আমার মা মারা যায়।
সে আরও জানায়,আমার বড় ভাই মুইন উদ্দিনকে ২০২৩ সালে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায় সন্ত্রাসীরা।এরপর আবার আমার ভাই মুইনকে বাড়ী থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।তারা আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে।কান্না জড়িত কন্ঠে বলে সন্ত্রাসীরা আমার বৃদ্ধ মাকেও বাচতে দেইনি।আমরা জীবন বাচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।তাদের ভয়ে আমরা আমাদের বাড়িতেও যেতে পারছি না।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: আদিল মাহমুদ বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।ঘটনাটি তদন্ত চলছে। অতি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
বিএন/এসসি//

