যুক্তরাষ্ট্রে আবারও ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে গায়ে আগুন

0
72

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে এক ব্যক্তি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আগুনে ওই ব্যক্তির শরীরের অনেকটাই পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং ওই ব্যক্তির গায়ের আগুন নেভান।

আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানায়নি পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে যে, গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ওই ব্যক্তি গায়ে আগুন দিয়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি কূটনৈতিক মিশনের সামনে এ ধরনের আত্মহত্যার চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনি সমর্থক এক ব্যক্তি জর্জিয়া রাজ্যের ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে গায়ে পেট্রল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ওই ঘটনাকে ‌‘রাজনৈতিক প্রতিবাদের উগ্রবাদী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছিল পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল, আত্মহত্যার চেষ্টাকারী ওই ব্যক্তির পাশেই একটি পেট্রলের বোতল ও একটি ফিলিস্তিনি পতাকা পাওয়া গেছে। আগুন দেওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে একজন নিরাপত্তারক্ষীও আহত হয়েছিলেন। পরে দুজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে এবার যিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, তার আশপাশে সে ধরনের কিছু পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য ঠিক কী ছিল, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ওই ব্যক্তির সঙ্গে দূতাবাসের কোনো কর্মীর পরিচয় বা সম্পর্ক নেই। 

ঘটনার সময় দূতাবাসের কাছেই একটি গাড়ি রাখা ছিল। গাড়িটিতে বোমা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটিতে তল্লাশি চালায়। যদিও গাড়িতে বিপজ্জনক কোনোকিছুই পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে নিশ্চিত করেছে যে, এ ঘটনায় তাদের কোনো কর্মী আহত হয়নি। তবে ঘটনার পর দূতাবাস এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের বন্দুকধারীদের হামলার পর গাজায় তাদের অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। হামাসের হামলায় ১২শ ব্যক্তি নিহত হয়। জিম্মি করা হয় ২৪০ জনকে। পরবর্তী সময়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক, এক মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে রাফাহ শহরে। মিশর সীমান্তবর্তী এই শহরে এর আগে বাস করতো মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে অনেকেই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বা তাঁবুতে বসবাস করছে। আশ্রয় শিবিরের ভয়াবহ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেশটিতে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি সমর্থকরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here